সোশ্যাল কেয়ার সংস্কারের অর্থায়নে প্রধানমন্ত্রীকে কর বৃদ্ধির বিষয়টি নাকচ করতে হবে
ডেস্ক রিপোর্টঃ কেমি ব্যাডেনক প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে সামাজিক সেবা (social care) সংস্কারের অর্থায়নের জন্য “কর বৃদ্ধি বা ঋণ গ্রহণের যেকোনো সম্ভাবনা নাকচ” করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে লেখা এক চিঠিতে কনজারভেটিভ পার্টির এই নেত্রী জানান যে, তিনি সমাধানের পথ খুঁজতে বার্নহ্যামের সাথে কাজ করতে আগ্রহী, তবে শর্ত হলো বার্নহ্যামকে তার দলের “দুটি মূল নীতি” মেনে চলতে হবে।
তিনি বলেন, যেকোনো সংস্কারের অর্থায়ন হতে হবে বর্তমান ব্যয় কমানোর মাধ্যমে—কর বাড়িয়ে নয়; এবং সেই সাথে সংস্কারটি এমন হতে হবে যা তাদের প্রতিও ন্যায্য আচরণ করে যারা “জীবদ্দশায় অর্থ সঞ্চয় ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছেন”।
ধারণা করা হচ্ছে, বার্নহ্যাম এই সপ্তাহে প্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক সেবা বিষয়ক একটি ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট) একটি সূত্র জানিয়েছে, “দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত সমস্যাগুলোর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া”—তার পরিকল্পনারই একটি অংশ এটি।
রবিবার প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে ব্যাডেনক আশা প্রকাশ করেন যে, তারা এই বিষয়ে “পারস্পরিক সমঝোতার একটি ক্ষেত্র” খুঁজে পাবেন।
ব্যাডেনক বিষয়টিকে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” হিসেবে অভিহিত করলেও উল্লেখ করেন যে, “সামাজিক সেবা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ঐকমত্য” গড়ে তোলার আগের প্রচেষ্টাগুলো মোটেও সহজ ছিল না।
বার্নহ্যামকে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন: “সামাজিক সেবা সংস্কারের বিষয়ে আপনার এবং অন্যান্য দলের সাথে কাজ করতে কনজারভেটিভরা আগ্রহী। তবে আমরা কেবল এমন সমাধানকেই সমর্থন করব যা দুটি মূল নীতি মেনে চলে।”
ব্যাডেনক বলেন, প্রস্তাবিত যেকোনো সমাধানকে প্রথমেই তাদের প্রতি ন্যায্য হতে হবে যারা “জীবদ্দশায় অর্থ সঞ্চয় ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছেন”।
দ্বিতীয়ত, তিনি বলেন যে প্রয়োজনীয় অর্থ বর্তমান ব্যয় কমানোর মাধ্যমেই সংগ্রহ করতে হবে এবং বার্নহ্যামকে “কর বৃদ্ধি বা ঋণ গ্রহণের যেকোনো সম্ভাবনা নাকচ করতে হবে—যার বোঝা শেষ পর্যন্ত পরবর্তী প্রজন্মের ওপর গিয়ে পড়বে”।
ব্যাডেনক আরও বলেন: “ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া বা অন্যত্র সরে যাওয়া, ইউরোজোনের তুলনায় তরুণদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে অনেক মানুষ যখন প্রকৃত কষ্টের সম্মুখীন, তখন সামাজিক সেবার খরচ মেটাতে কর বৃদ্ধি করাটা ব্রিটেনের জন্য একেবারেই কাম্য নয়।”
২০০৯ সালে গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বার্নহ্যাম প্রথম ইংল্যান্ডে সামাজিক সেবার একটি সর্বজনীন ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এই ইস্যুতে নিজের রাজনৈতিক পুঁজি বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে প্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক সেবার সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া নেতাদের মধ্যে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে একমাত্র ব্যক্তি নন।
২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম ভাষণে বরিস জনসন বলেছিলেন যে, কনজারভেটিভ পার্টি “সামাজিক সেবার সংকট চিরতরে সমাধান করবে”। পাঁচ বছর পর, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে, স্যার কিয়ার স্টারমার সমালোচনার মুখে পড়েন। ইংল্যান্ডে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তিকে তাঁর জীবদ্দশায় ব্যক্তিগত পরিচর্যার (personal care) জন্য যে অর্থ ব্যয় করতে হয়, তার ওপর ৮৬,০০০ পাউন্ডের যে সর্বোচ্চ সীমা বা ‘ক্যাপ’ (cap) নির্ধারণের পরিকল্পনা ছিল, লেবার পার্টি তা বাতিল করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষে সোচ্চার লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি শনিবার বলেন: “সামাজিক পরিচর্যা খাতের এই বিপর্যয় অবসানের লক্ষ্যে এটিই হোক একটি প্রকৃত প্রচেষ্টার সূচনা।”
তিনি আরও বলেন: “পরিবারের যেসব সদস্য পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করেন (ফ্যামিলি কেয়ারার), তাঁদের কথা যেন ভুলে না যাওয়া হয়—সেজন্য আমি লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের সব দলের মধ্যে ঐকমত্য প্রয়োজন এবং আমি আশা করি প্রধানমন্ত্রীর দরজা এ বিষয়ে আলোচনার জন্য খোলা থাকবে।”
স্যার এডের মন্তব্যের জবাবে বার্নহাম ‘এক্স’ (X)-এ লেখেন: “অবশ্যই তা-ই, এড। আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন কোনো সাধারণ ভিত্তি বা সমঝোতার পথ খুঁজে বের করি যেখানে সবাই একমত হতে পারি।”