স্কাউটিং প্রতিষ্ঠাতা লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল জন্মদিন
এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিনঃ স্কাউটিং আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা লর্ড রবার্ট ব্যাডেন-পাওয়েল আধুনিক বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী যুবনেতা। তাঁর জন্ম ২২ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৭ সালে, ইংল্যান্ডের লন্ডনে। ছোটবেলা থেকেই তিনি প্রকৃতি, অভিযান ও নতুন কিছু শেখার প্রতি গভীর আগ্রহী ছিলেন। এই আগ্রহই পরবর্তীতে তাঁকে এমন একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করে, যা আজ বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর চরিত্র গঠনে ভূমিকা রাখছে।
ব্যাডেন-পাওয়েল ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। সামরিক জীবনে তিনি আফ্রিকা ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে শৃঙ্খলা, আত্মনির্ভরশীলতা, নেতৃত্বগুণ এবং দলগত চেতনা একজন তরুণের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ১৮৯৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাফেকিং অবরোধের সময় তিনি কিশোরদের দিয়ে বার্তা পৌঁছানো ও সহায়ক কাজ করান। তাদের দায়িত্ববোধ ও দক্ষতা তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি তরুণদের জন্য একটি শিক্ষামূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করেন। ১৯০৭ সালে ইংল্যান্ডের ব্রাউনসি দ্বীপে প্রথম পরীক্ষামূলক স্কাউট ক্যাম্প আয়োজন করেন। সেই ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী ছেলেদের নিয়ে তিনি প্রমাণ করেন যে খেলার মাধ্যমে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে এবং বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নেতৃত্ব ও নৈতিকতা গড়ে তোলা সম্ভব। পরবর্তীতে ১৯০৮ সালে তিনি “Scouting for Boys” গ্রন্থ প্রকাশ করেন, যা দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং স্কাউটিং আন্দোলন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
স্কাউটিংয়ের মূল লক্ষ্য হলো চরিত্র গঠন, নাগরিকত্বের শিক্ষা এবং শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। স্কাউট প্রতিজ্ঞা ও আইনের মাধ্যমে তরুণদের সততা, দায়িত্বশীলতা, সেবামূলক মনোভাব ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা হয়। ব্যাডেন-পাওয়েল বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ও সেবামূলক কাজের মধ্য দিয়েই একজন মানুষ পূর্ণতা পায়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কাউটিং দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ১৯২০ সালে প্রথম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরি অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ব্যাডেন-পাওয়েলকে “চিফ স্কাউট অব দ্য ওয়ার্ল্ড” উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তাঁর নেতৃত্বে স্কাউটিং একটি বৈশ্বিক আন্দোলনে পরিণত হয়। পরবর্তীতে গার্ল গাইড আন্দোলনও গড়ে ওঠে, যাতে মেয়েরাও সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
ব্যাডেন-পাওয়েল জীবনের শেষভাগে কেনিয়ায় বসবাস করেন। ১৯৪১ সালের ৮ জানুয়ারি তিনি পরলোকগমন করেন। তবে তাঁর আদর্শ, শিক্ষা ও কর্মধারা আজও বিশ্বব্যাপী স্কাউটদের অনুপ্রাণিত করছে। প্রতি বছর ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁর জন্মদিন বিশ্ব স্কাউট দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। এই দিনটি শুধু একজন মহান ব্যক্তির জন্মদিন নয়, বরং সেবা, নেতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণের দিন।
লর্ড ব্যাডেন-পাওয়েলের জীবন আমাদের শেখায় যে সঠিক দিকনির্দেশনা ও আদর্শ থাকলে তরুণ সমাজই একটি জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত স্কাউটিং আন্দোলন আজও সেই শক্তিকে জাগ্রত রাখার এক অনন্য মাধ্যম।
লেখকঃ এস. এম. এম. মুসাব্বির উদ্দিন
সদস্য সচিব
জনসংযোগ, মার্কেটিং ও মিডিয়া উপ কমিটি
আমরা স্কাউট গ্রুপ, ঢাকা