১৯৬৬ সালের পর সেরা সাফল্য, তবু মন খারাপ নিয়ে দেশে ফিরলেন ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা
ডেস্ক রিপোর্টঃ দীর্ঘ সাত সপ্তাহের সফর শেষে দেশে ফিরেছেন ইংল্যান্ড ফুটবল দলের তারকারা। শনিবার রাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি থেকে রওনা হয়ে ফুটবলাররা বার্মিংহাম বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।
এবারের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ‘থ্রি লায়ন্স’রা তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। শিরোপা না জিতলেও, ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এটিই ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় এবং সেরা সাফল্য। পুরো টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড বেশ কিছু দুর্দান্ত ম্যাচ উপহার দিয়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের বিপক্ষে ১০ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের অন্যতম উন্মাদনাপূর্ণ ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
তবে সেই আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে গত বুধবার রাতের সেমিফাইনালে। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ২-১ ব্যবধানের হৃদয়বিদারক পরাজয়টিই এখন ভক্তদের স্মৃতিতে বেদনার দাগ কেটে গেছে। এই হারের ফলে ফাইনালের স্বপ্ন ভঙ্গ করে আগেই দেশে ফেরার বিমান ধরতে হয় ইংল্যান্ডকে। আজ সন্ধ্যায় টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেনের।
সেই ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডন দুর্দান্ত এক গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তে গ্যালারিতে থাকা ইংলিশ সমর্থকদের উল্লাস এবং পুরো জাতির প্রত্যাশা আকাশ ছুঁয়েছিল। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গোল পাওয়ার পরপরই ইংল্যান্ড অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয়। এই সুযোগে চেলসির তারকা এনজো ফার্নান্দেজ গোল করে প্রতিপক্ষকে সমতায় ফেরান। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে লাউতারো মার্টিনেজ আরেকটি গোল করে প্রতিপক্ষের জয় নিশ্চিত করেন এবং তাদের নিউ জার্সির ফাইনাল মঞ্চে নিয়ে যান।
এই নাটকীয় ম্যাচের পর থেকেই ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস টুখেল তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে গর্ডনের গোলের পর তার নেওয়া খেলোয়াড় পরিবর্তনের (Substitutions) সিদ্ধান্তটি নিয়ে দলের ভেতর এবং বাইরে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ভক্ত ও ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোচের সেই রক্ষণাত্মক সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য ইংল্যান্ডের হাত থেকে কেড়ে নিয়েছে।
