১৪টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একত্রিত হয়ে চালু করলো নতুন ফস্টারিং সার্ভিস

Spread the love

সকল স্তরের আরও বেশি লোকজন যাতে ফস্টার কেয়ারার (বাচ্চাদের পালক তত্ত্বাবধায়ক) হতে অনুপ্রাণিত করা যায়সেজন্য ১৪ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ (কাউন্সিল) প্রথমবারের মতো তাদের প্রচেষ্টাকে একত্রিত করছে।
বর্তমানের ক্রমবর্ধমান সংকটের সময়ে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছেযখন বৃটেনের রাজধানী লন্ডনে প্রতিটি অনুমোদিত পরিচর্যাকারীর জন্য চারটি শিশুর ফস্টার কেয়ারের স্থান প্রয়োজন।
এখন অবধিরাজধানীর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হয় দুর্বল শিশু এবং কিশোর বয়সীদের জন্য নিজেরাই বাড়ি খুঁজে পেয়েছে বা তৃতীয় পক্ষের সাথে চুক্তি করেছে।
ফস্টার কেয়ার ফোর্টনাইট (১৩ – ২৬ মে) অর্থাৎ পালক পরিচর্যা পক্ষ চলার সময়ে হ্যাভারিং থেকে হিলিংডন পর্যন্ত বিস্তৃত বরোগুলিকে একত্রিত করার মাধ্যমে নতুন পরিষেবাটি চালু করা হয়।
লোকাল কমিউনিটি ফস্টারিং হল ছয়টি উত্তর – পূর্ব লন্ডন বরোর একটি কনসোর্টিয়াম (ওয়ালথাম ফরেস্টবার্কিং অ্যান্ড ডেগেনহামহ্যাভারিংনিউহ্যামরেডব্রিজ এবং টাওয়ার হ্যামলেটস)।
ফস্টার উইথ ওয়েস্ট লন্ডন অন্যান্য আটটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে (ব্রেন্টইলিংহ্যামারস্মিথ এবং ফুলহ্যামহ্যারোহিলিংডনহাউন্সলোরয়্যাল বরো কেনসিংটন এবং চেলসি এন্ড ওয়েস্টমিনস্টার সিটি কাউন্সিল) কভার করে।
গত এক দশকে অনুমোদিত ফস্টার কেয়ারারের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।
২০১৪ সালে মোট ৩,৬৮৫টি অনুমোদিত পরিবার ছিল কিন্তু ২০২৩ সালের মার্চের শেষে (সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী) এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২,৫৬০টিতেঅর্থাৎ ১,১২৫টি ফস্টার কেয়ার হোম সামগ্রিকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
ফস্টার কেয়ার ফোর্টনাইটের জন্য পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যেবাচ্চাদের লালন পালনের স্থান সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে।
প্রশ্ন করা তিনজনের মধ্যে একজন বলেছেন যেদুই বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য অতিরিক্ত ঘরের প্রয়োজন হওয়ায় তাদের পালক তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার জায়গা নেই।
অনুমান করা হয় যেপ্রতি দশ জনের মধ্যে সাত জন যারা কাউন্সিলের সাথে প্রাথমিক অনুসন্ধান করে তারা প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করার আগেই বাদ পড়ে যায়।
টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটসে জরুরীভাবে আরো পালক তত্ত্বাবধায়ক (ফস্টার কেয়ারার) প্রয়োজন।”
১৪ কাউন্সিলের নতুন যৌথ উদ্যোগ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, “একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমেকাউন্সিলগুলো তাদের লালন পালনের যাত্রায় আরও পরিবারকে সহায়তা করার জন্য সম্পদ এবং সর্বোত্তম অনুশীলন ভাগ করতে সক্ষম হবে।”
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের শিক্ষাযুব ও আজীবন শিক্ষা বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার এবং ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইম তালুকদার বলেছেন, “লোকাল কমিউনিটি ফস্টারিং চালু করা দীর্ঘমেয়াদে লন্ডন জুড়ে কাউন্সিলের জন্য অর্থ সাশ্রয় করবে। এর ফলে ফস্টার কেয়ারারদের নেটওয়ার্ক কেয়ার সাপোর্ট গ্রুপ গুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে।”
এপ্রিল মাসে ১,০৫৮ প্রাপ্তবয়স্ক লন্ডন বাসীর উপর ইউগোভ পরিচালিত এক জরিপে পাওয়া গেছে:
প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন (২০ শতাংশ) লন্ডনবাসী ফস্টারিং (লালন-পালন করা) করার কথা বিবেচনা করেছেনকিন্তু জরিপ করাদের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ প্রকৃতপক্ষে লালন পালন করেছেন।
লালন পালন করতে চাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে ৫৮ শতাংশ একটি শিশুকে একটি ভালো ভবিষ্যত দেওয়ার কথা বলেছেন এবং একটি শিশুকে একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সাহায্য করাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ৪৯ শতাংশ।
মাত্র পাঁচজনের মধ্যে একজন (২২ শতাংশ) বলেছে যে তারা উপলব্ধ আর্থিক প্যাকেজের জন্য লালন পালন বিবেচনা করবে।
যদিও ২৯ শতাংশ বলেছেন যে তারা কাউকে লালন—পালনের জন্য খুব বৃদ্ধ বা খুব কম বয়সী বলে মনে করেন।


Spread the love

Leave a Reply