রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ: ব্রিটিশ রাজপরিবারে একটি অধ্যায়ের অবসান

Spread the love

বাংলা সংলাপ ডেস্কঃ “রানি মারা গেছেন। রাজা দীর্ঘজীবী হোক।”

আমরা লক্ষ লক্ষ মানুষ এই বাস্তবতা আগে কখনো দেখিনি।

আমরা অনেকেই অন্য কোন রাজা বা রানি সম্পর্কে জানি না । বিগত দশকগুলোতে পৃথিবী দ্রুত পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে গেলেও তিনি ছিলেন একই রকম।

সম্ভবত তিনি ছিলেন পৃথিবীর একমাত্র নারী যাকে চট করে সবাই চিনে ফেলতো। ব্রিটেনে এবং অন্যদেশে তার পরিচিতি ছিল ব্যাপক।

তিনি রানি ছিলেন, কিন্তু শাসন করেননি।

তার বাসভবন উইন্ডসর বিভিন্ন সময় আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। বিভিন্ন সংকটের সময় এটি টিকে থাকা নিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলেছিল।

কিন্তু রানি টিকে ছিলেন এবং সব সহ্য করে গেছেন।

সমাজ যখন মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে গেছে, তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তার ভূমিকা পালন করে গেছেন।

তার ২১তম জন্মদিনে সাউথ আফ্রিকা সফরের সময় এক বক্তব্যে তিনি নিজেই নিজের জন্য চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন।

সেটি তার জীবনে উদযাপন করার মতো অন্যতম ঘটনা এবং অনেকটা ব্যক্তিগত ইশতেহারের মতো।

দর্শকদের সামনে তখনকার রাজকুমারী বলেছিলেন, “আমি আপনাদের সবার সামনে ঘোষণা দিচ্ছি যে আমার জীবন ছোট হোক কিংবা বড় হোক, আমি আপনাদের এবং রাজ পরিবারের সেবার নিয়োজিত থাকবো।”

উনিশশো ছাব্বিশ সালের ২১শে এপ্রিল যখন রাজকুমারী এলিজাবেথ আলেকজান্দ্রা মেরির জন্মের সময় তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা হিসেব যোগ দিয়েছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তখন একই সাথে ব্রিটেনের কয়লা সংকটও সামাল দিতে হচ্ছিল। রাজকুমারী এলিজাবেথ আলেকজান্দ্রা মেরির রানি হবার কথা ছিল না।

তার বাবা ছিলেন রাজা পঞ্চম জর্জের দ্বিতীয় পুত্র। তার বাবা ছিলেন খুবই লাজুক প্রকৃতির এবং তার তোতলামোর সমস্যা ছিল।

তার চাচা যদি পদ ছেড়ে না দিতেন তাহলে এলিজাবেথ হয়তো নীরবে-নিভৃতে দিন কাটাতেন।

তার শৈশব ছিল খুবই আনন্দময়। জীবনের শুরু থেকে তিনি উপভোগ করেছেন।

এলিজাবেথ এবং তার বোন প্রিন্সেস মার্গারেট-এর সাথে একত্রে বেড়ে উঠেছেন তাদের কাজিন মার্গারেট রোডস।

প্রয়াত মার্গারেট রোডস বলেছিলেন, “তারা যখন খুব ছোট ছিলেন তখন তারা ঘোড়া সেজে খেলতেন।”

“আমরা সার্কাসের ঘোড়া সাজতাম এবং সেই ঘোড়ার উপর চড়তাম কিংবা যা মন মন চাইতো সেটা করতাম। তখন আমরা ঘোড়ার মতো ডাক দিতাম এবং তাদের মতো ঘোড়ার মতো ছুটে চলতাম।”

ভালোবাসায় পূর্ণ একটি পরিবার থেকে এসেছিলেন এলিজাবেথ।

যুদ্ধকালীন প্রিন্সেস
এলিজাবেথের চাচা অষ্টম এডওয়ার্ড রাজসিংহাসন ছেড়ে দেবার পর ১৯৩৬ সালে তার বাবা সিংহাসনে আরোহণ করেন। এরপর থেকে তার ভূমিকা পরিবর্তন হয়ে যায়।

ওয়ালিস সিম্পসনকে বিয়ে করার জন্য রাজা অষ্টম এডওয়ার্ড সিংহাসন ছেড়ে দেন।

এলিজাবেথের সাথে তার বাল্য বন্ধু সোনিয়া বেরির প্রথম দেখা হয় লন্ডনের পিকাডেলিতে। সেখানে এলিজাবেথ তার ন্যানিকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন।

“তুমি কি আমার সাথে খেলবে?” এভাবেই প্রিন্সেস এলিজাবেথ সোনিয়া বেরির সাথে কথা বলেছিলেন।

এলিজাবেথ রাজ সিংহাসনেরউত্তরাধিকারী হবার পর একসময়ের খেলার সাথীর সম্পর্ক অনেকটা ফরমাল বা আনুষ্ঠানিক হয়ে যায়।
” আমরা তাকে প্রিন্সেস বলে ডাকতাম। তার সামনে হাঁটু গেড়ে অভিবাদন জানাতাম। তিনি অনেক বড় হয়ে গেলেন, এবং আরো সিরিয়াস হলেন,” বলেন মিন বেরি।

এই সিরিয়াসনেস-এর বিষয়টি ছিল তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

তার বাবার রাজত্বের সময়টিতে ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। তখন তিনি এর পক্ষে প্রচারণা চালান।

প্রেমে পড়া
উনিশশো চল্লিশ সালে মার্গারেটকে পাশে রেখে এলিজাবেথ শিশুদের উদ্দেশ্যে একটি ভাষণ দেন।

“যখন শান্তি আসে, মনে রাখবেন সেটা আমাদের জন্য। আজকের শিশুরা আগামী দিনে ভালো এবং সুখী পৃথিবী গড়ে তুলবে।”

সেই সুযোগ আসতে পাঁচ বছর লেগেছিল। বাকিংহ্যাম প্রাসাদের বাইরে যখন ভিই ডে (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয় দিবস) পালিত হয়, তখন দুই বোন রাস্তার পরিস্থিতি দেখার জন্য বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন।

পরবর্তী সময়ে রানি এলিজাবেথ সে রাতটিকে তার জীবনে সবচেয়ে স্মরণীয় হিসেব উল্লেখ করেন।

তখন প্রিন্সেস এলিজাবেথের সাথে ছিলেন তার ব্যক্তিগত সহকারী জেন উডরফ।

তিনি বলেন, “সবচেয়ে মজার বিষয় ছিল, আমরা রিটজ হোটেলে গিয়েছিলাম। সেখানে এক দরজা দিয়ে আমরা ঢুকলাম এবং অন্য আরেকটি দরজা দিয়ে ভিন্ন আরেকটি দিকে বের হয়ে গেলাম।”

“কেউ আমাদের খুব একটা লক্ষ্য করেছিল বলে মনে হয়নি,” বলে উডরফ।

“এর আমরা বাকিংহ্যাম প্রাসাদের বাইরে এসে মানুষের সাথে দাঁড়ালাম এবং সবার সাথে চিৎকার করে বললাম ‘আমরা রাজাকে চাই’। যতক্ষণ পর্যন্ত রাজা এবং রানি বেলকনিতে আসলেন না আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষের সাথে চিৎকার করতে থাকলাম।”

যুদ্ধ চলার সময় গ্রিসের সুদর্শন প্রিন্স ফিলিপের প্রেমে পড়লেন এলিজাবেথ।

রাজার মৃত্যু
উনিশশো উনচল্লিশ সালে প্রিন্স ফিলিপ এবং এলিজাবেথের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের জন্য দেখা হবার পরে ফিলিপের প্রতি তিনি আকৃষ্ট হন।

রাজ পরিবারের একজন কর্মকর্তার ভাষ্য মতে ‘কপর্দকহীন এবং বিদেশী রাজপুত্রকে’ বাবার সামনে তুলে ধরার বিষয় নিয়ে এলিজাবেথ-এর সংশয় ছিল। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধরে সেটি করতে পরেছেন।

এলিজাবেথ এবং ফিলিপের বিয়ের প্রথম কয়েক বছর ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন।

ফিলিপের একজন ভৃত্যের বর্ণনা অনুযায়ী – তারা ছিলেন বেশ রোমান্টিক।

ফিলিপ যখন মল্টায় নৌবাহিনী অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তখন এলিজাবেথ সেখানে গাড়ি চালাতে যেতেন। সেখানে তিনি নাচতেন এবং পিকনিক করতেন।

কিন্তু এটা খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এলিজাবেথ যখন কেনিয়ায় একটি অবকাশ যাপন কেন্দ্রে ছিলেন তখন তিনি তার বাবার মৃত্যুর খবর পান।

এলিজাবেথ কেনিয়ায় গিয়েছিলেন একজন প্রিন্সেস হিসেবে কিন্তু ব্রিটেনে ফিরে এলেন রানী হিসেবে।

তিনি বলেছিলেন, রানি হিসেব তার কোন শিক্ষানবিসকাল ছিল না।

একটি টেলিভিশন প্রামাণ্যচিত্রে তিনি বলেন, তার নিয়তিতে যেটা ছিল সেটাকে তিনি সেরা কাজ হিসেবে তৈরি করেছেন।

যারা এখন তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন এবং ভবিষ্যতে ইতিহাসবিদরা তাকে হয়তো মূল্যায়ন করবেন যে তিনি তার লক্ষ্যে সফল ছিলেন।

রানি হওয়াকে তিনি উপভোগ করেছিলেন।

রানির কাজের যে নিয়মতান্ত্রিকতা এবং সহজে অনুমেয় বিষয়টিকে তিনি পছন্দ করতেন। রানীর লাল বাক্সে প্রতিদিন যেসব সরকারি কাগজপত্র আসতো সেগুলো তিনি প্রতিদিন বেশ আগ্রহ সহকারে দেখতেন।

এমনকি নব্বইয়ের দশকের কঠিন সময়গুলোতেও তিনি প্রতিদিন লাল বাক্স খুলেছেন এবং সেখান যেসব কাগজপত্র আসতো সেগুলো নিয়মিত পড়েছেন।

রানি হিসেবে সব বিষয়ে জানা তার অধিকার যেমন ছিল, একই সাথে উপদেশ কিংবা সতর্ক করার অধিকারও ছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় টেরিটোরিয়াল সার্ভিসে প্রিন্সেস এলিজাবেথ।

রাজতন্ত্রের আত্মরক্ষামূলক অবস্থান
ব্রিটেনের একের পর এক প্রধানমন্ত্রী তার আভিজাত্যের মায়ায় বাধা পড়েছেন।

এর মধ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ছিল যখন অসুস্থ প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড ম্যাকমিলান তার উত্তরসূরি হিসেবে লর্ড হোম-এর নাম প্রস্তাব করেন। রানি এলিজাবেথ তখন সাথে সাথে সে প্রস্তাব মেনে নেন।

অনেকে মনে করেন, বিষয়টি নিয়ে রানির আরো ব্যাপকভাবে আলোচনা করার প্রয়োজন ছিল।

কিন্তু কনজারভেটিভ পার্টি যেভাবে তাদের নেতা নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তন করেছে সেটি রানিকে ভবিষ্যতে বিব্রত হবার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।

তার রাজত্বের সময় ধীর গতিতে পরিবর্তন এসেছে।

তার স্বভাবসুলভ রক্ষণশীল চরিত্র বলে দেয় যে তিনি এসব পরিবর্তনের সূচনা করেননি। সেগুলোর সুবিধা দেখে তিনি বিষয়গুলো বুঝতে পেরেছিলেন।

রাজপরিবার ধীরে ধীরে টেলিভিশনবান্ধব হয়ে উঠলো।

প্রাসাদে টিভি ক্যামেরা ঢোকার অনুমতি দেয়া হতো। মাঝেমধ্যে এর ফলাফল হতো বিপর্যয়কর।

উনিশশো ষাটের দশকে টিভিতে দেখা যায় যে রাজপরিবারের সদস্যরা কাজ করছেন এবং খেলাধুলা করছেন। এটা দেখাটা ছিল একটি বড় ঘটনা।

উনিশশো আশির দশকে টেলিভিশনের পর্দায় রাজপরিবারের সদস্যদের রয়্যাল নকআউট টুর্নামেন্টে খেলার দৃশ্য ছিল বিব্রতকর।

যদিও দাতব্য কাজের জন্য এ ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে রানি খুশি হতে পারেননি।

সে সময়টিকে প্রসাদের দরজার অন্তরালে আসল সমস্যাগুলো তৈরি হতে থাকে।

এর পরের দশকে এসে সেসব সমস্যার বিস্ফোরণ ঘটে।

জনগণের রাজকুমারী
তার কয়েকজন সন্তানের বিয়ে ভেঙ্গে যায় এবং সেগুলোর খবর বিভিন্ন ট্যাবলয়েড সংবাদপত্রে স্থান পায়। সর্বোপরি, ১৯৯২ সালে উইন্ডসর ক্যাসেলে অগ্নিকাণ্ড হয়।

একটি পরিবার কতটা সমস্যায় আছে এটিকে তার প্রতীক বলে মনে হয়।

উনিশশো বিরানব্বই সালে এক ভাষণে যাকে তিনি বলেছিলেন ‘অ্যানাস হরিবিলিস’ (ভয়ঙ্কর বছর), সে সময় অগ্নিকাণ্ড ঘটে উইন্ডসর প্রাসাদে।

রাজপরিবার তখন ছিল আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে। ঘরের ভেতরে এই পরিবারটি মাঝে মধ্যে ছিল ভীষণ অকার্যকর।

মা হিসেবে রানি ভেবেছিলেন এসব দোষারোপের কিছু বিষয় তুলে ধরবেন।

উইন্ডসর ক্যাসেলের অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতি পুষিয়ে আনার জন্য বাকিংহ্যাম প্রাসাদ থেকে আয়কর দেবার প্রথা চালু হয়।

রানি এবং তার উত্তরাধিকারী কিছুটা দেরিতে আয়কর দেয়া শুরু করেন।

খারাপটা তখনো আসেনি।

উনিশশো সাতানব্বই সালের অগাস্ট মাসে রানির জীবনের সবচেয়ে কঠিন সপ্তাহ আসে।

ফ্রান্সের একটি টানেলে এক প্রাণঘাতী গাড়ি দুর্ঘটনার মাধ্যমে এর সূত্রপাত হয়। যার শেষটা হয়েছিল নিহত রাজকুমারীর কফিন যখন লন্ডনের রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন মানুষের কান্না আর ক্ষোভের মধ্য দিয়ে।

জনসমক্ষে আবেগ দেখানোর বিষয়টিতে রানি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন না। প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু রানিকে হতবিহবল করেছিল।

রানি মনে করেছিলেন তার দায়িত্ব হচ্ছে স্কটল্যান্ডে অবস্থানরত ডায়ানার শোকার্ত ছেলেদের দেখাশোনা করা।

রানির স্কটল্যান্ডে যাবার বিষয়টিকে অনেকে মেনে নিতে পারেননি। তিনি লন্ডনে ফিরে এসে টেলিভিশন ভাষণ দেন। সেখানে তিনি দাদী হিসেবে কথা বলেছেন এবং ডায়ানার উদাহরণ থেকে শেখার প্রতিশ্রুতি দেন।

কর্তব্যের প্রতি তিনি কখনো অবহেলা করেননি।

দুর্নাম তাকে ছুঁতে পারেনি
ঝড়ের মেঘ কেটে গেছে। আরো কিছু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা এসেছে এবং গিয়েছে। দুই হাজার দুই সাল ছিল উদযাপন এবং দুঃখের বছর।

প্রথমে তার বোন এবং পরবর্তীতে তার মা মারা যান। শোক প্রকাশ করার মতো সময় রানির হাতে খুবই কম ছিল। হাজার হাজার মানুষ তখন তার সিংহাসনে আরোহণের সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছিল।

সে বছরই পল-ব্রুনেলের মামলা খারিজ হয়ে যাবার পর উদযাপনের উপর কালো ছায়া পড়ে।

পল-ব্রুনেল ছিলেন রাজপরিবারের ভৃত্য। তিনি পরবর্তীতে ডায়ানার প্রধান ভৃত্য হয়েছিলেন।

রাজ পরিবারের সম্পদ চুরির দায়ে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।

মুক্তি পাবার পর পল-ব্রুনেল ঘোষণা করেন, “রানি আমার জন্য এসেছেন।”

তিন বছর পরে প্রিন্স চার্লস ক্যামিলা পার্কারকে বিয়ে করেন।

রানী সে বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। তবে তাদের আশীর্বাদ করার জন্য তিনি উইন্ডসর ক্যাসেলে উপস্থিত ছিলেন।

আরো কিছু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ছিল। যেমন- রানির ৮০তম জন্মদিন, ৬০তম বিবাহ বার্ষিকী, আয়ারল্যান্ডে ঐতিহাসিক সফর, একসময়ের আইআরএ নেতা এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ডেপুটি ফার্স্ট মিনিস্টার মার্টিন ম্যাকগিনিসের সাথে করমর্দন, প্রিন্স উইলিয়ামের বিয়ে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল রানির ডায়মন্ড জুবিলি। রানি ভিক্টোরিয়ার পরে রানি এলিজাবেথই একমাত্র ডায়মন্ড জুবিলি পালন করতে পেরেছেন।

দুই হাজার তের সালে তার নাতীর ছেলের জন্ম হয়। গত একশ বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের তিনজন সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী একই সাথে জীবিত আছেন।

এর দুই বছর পরে রানি ভিক্টোরিয়ার রেকর্ড ভেঙ্গে দ্বিতীয় এলিজাবেথ ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রানি হলেন।

রানি অবশ্য বলেছিলেন, এটা এমন কোন রেকর্ড নয় যেটা তিনি ভাঙার ইচ্ছে পোষণ করেছেন।

আমরা সবাই রানির বাইরের জীবন সম্পর্কে জানি। তার বন্ধুরা বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে প্রাসাদের ভেতরে তিনি ছিলেন খুবই বিনয়ী এবং তার রসবোধ ছিল।

তিনি ছিলেন এমন একজন নারী যাকে দেখে সমীহ জাগতো এবং একই সাথে তার হাসির মাধ্যমে দ্যুতি ছড়াতে পারতেন।

মাঝে মধ্যে মনে হতো তার সময়কালটি ছিল রোলার কোস্টারের উত্থান-পতনের মতো।

তার সমালোচনাকারীরা মনে করতেন, তিনি ছিলেন নাগালের বাইরে এবং তার কাছে যাওয়া যেতো না।

কিন্তু তার অগণিত ভক্তরা বলেন, তিনি কখনো জনগণের শ্রদ্ধা হারাননি। উইন্ডসর ক্যাসেলের অন্য সদস্যদের যেভাবে কেলেঙ্কারি স্পর্শ করেছে সেটি রানির ক্ষেত্রে হয়নি।

জীবনভর তার একাকী দায়িত্বে খ্রিস্টান ধর্ম এবং তার স্বামী সমর্থন জুগিয়েছেন।

উইন্ডসর হাউজ এখন তার ছেলের হাতে, যার মেয়াদ তার মায়ের চেয়ে সংক্ষিপ্ত হবে।

এখন সুযোগ এসেছে একজন দীর্ঘজীবী এবং লাজুক রানি, যিনি জনগণের ভালোবাসা পেয়েছেন, তার জীবনের প্রতি আলোকপাত করা।

দ্বিতীয় এলিজাবেথের অধ্যায় সবে শেষ হলো।


Spread the love

Leave a Reply